দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে বৈঠকের পর, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতির আলোচনা চলছে। কিন্তু একই সময়ে অরুণাচল সীমান্তে চীনের নীরব আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চীন নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে এবং স্থানীয় আদিবাসীদের চারণভূমি দখল করছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার একটি বড় অংশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত নয়। ভারত অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অংশ মনে করে, অন্যদিকে চীন এটিকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ দাবি করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে চীনের নির্মাণ কাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চীনের নির্মাণ কার্যক্রমের পেছনে সামরিক উদ্দেশ্য রয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী জনগণের অভিযোগ, চীনা বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে এবং তাদের পূর্বপুরুষের জমিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের জুন মাস থেকে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
অরুণাচলের ‘অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ অভিযোগ করেছে যে, যেখানে আগে ভারতীয় সেনারা টহল দিত, সেখানে এখন চীনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তারা জানান, স্থানীয়রা প্রতিদিন ‘ইঞ্চি ইঞ্চি করে’ জমি হারাচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, তবে স্থানীয়রা বাস্তবতা তুলে ধরছেন। চীনের ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশল অনুযায়ী, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
ভারত সরকার সীমান্ত এলাকাগুলোকে জনবহুল রাখতে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ কর্মসূচি চালু করেছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এটি চীনের দ্রুত নির্মাণের সঙ্গে তাল মিলাতে পারবে কি না।
দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি এবং সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যে একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।