মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার রোহিঙ্গা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কখনোই টেকসই হয় না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, "বিশ্বের কোনো দেশেই মানবিক কারণে এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ার নজির নেই। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা।"
২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। তবে ৯ বছরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
মালয়েশিয়াতে আশ্রয় নেয়া ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন।
তিনি বলেন, "মালয়েশিয়ার কোন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছে তা আমরা জানি না। পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করে তাদের ফেরত পাঠানো হলে উদ্বেগের বিষয়। প্রত্যাবাসন অবশ্যই শরণার্থী-কেন্দ্রিক এবং স্বেচ্ছায় হতে হবে।"
বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। তারা বলছে, "শুধু মৌখিক সমর্থন নয়, আর্থিক সহায়তা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।"