বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমানত সংগ্রহের নামে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এ অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হামিদুর রহমান এবং ট্রেজারি বিভাগের প্রধান দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা ঘটনাটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক সংকট কাটাতে ‘উজ্জীবন আমানত ক্যাম্পেইন ২০২৬’ চালু করে, যার আওতায় ২৭০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত আমানত না পাওয়ায় ক্যাম্পেইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
নতুন সময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে ১০০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করা হয় এবং এর বিপরীতে ১৩ কর্মকর্তাকে ৪ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়। এই ৪ কোটি টাকা দুই দিনে ১৪টি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা এনে ভল্টে রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল হক বলেন, ১৩ জন কর্মী মিলে গ্রুপ করে আমানত সংগ্রহ করেছে এবং তাদের উৎসাহ দিতে প্রণোদনা হিসেবে অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ট্রেজারি বিভাগের প্রধান দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে।