বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

মার্কিন হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জর্ডানে

মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জর্ডানে

মার্কিন বাহিনীর হামলায় পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস হওয়ার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের দিকে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দিয়েছে তেহরান।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে এবং এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে দু'বার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায় ইরান। হামলার দুটি প্রচেষ্টা সফলভাবে এড়ানো যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, চারটি তেলবাহী জাহাজে ওমান উপসাগরে এবং অপর একটি জাহাজে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়। হামলার আগে, জাহাজগুলোর ক্রু'দের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন বাহিনীও ব্যবহার করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজের ক্রু'দের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন হামলার শিকার হওয়া একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ খার্গ দ্বীপ থেকে মাত্র চার মাইল দূরে ছিল। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ওপর আরও কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও জোরদার করছে। মঙ্গলবার ইরানের বিমান খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার আওতায় পড়েছে ২৭টি বিমান সংস্থা।

এভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন