দেশে বিদেশি বিনিয়োগের খরা কাটতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। গত দেড় বছরে ২০টি দেশের ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভবিষ্যতে বিনিয়োগ আরো বাড়বে। তবে উদ্যোক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট দূর করা না হলে টেকসই বিনিয়োগ সম্ভব হবে না।
গত এক দশকে কয়েকটি বেসরকারি অঞ্চল ছাড়া সফলভাবে কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বদলে ৫টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিডা’র মুখপাত্র নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, “১০ থেকে ১২টি বড় প্রোপোজাল যেগুলো গত ১২ থেকে ১৮ মাস ধরে পাইপলাইনে ছিল, সেগুলো কনভার্ট হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, চাইনিজ প্রোডিউসার পাওয়ার প্রোডিউস করতে চাইছে, তবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
হংকংভিত্তিক হ্যান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ ৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৮ কোটি ডলারের পোশাক কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
এছাড়া, চীনের শানডং হেনগলি টেক্সটাইল নারায়ণগঞ্জের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করছে। চায়না লেসো গ্রুপ চট্টগ্রামে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে।
ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, “গত ৩-৪ বছরে বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পে বিনিয়োগকারীরা গ্যাসের অভাবে অনেক অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন।” ২০২৬ সালে নতুন করে দেড় হাজার কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ যুক্ত করতে চায় বিডা।