ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির কারণে এইডস ও হেপাটাইটিসের মতো প্রাণঘাতী জীবাণু ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসায় ব্যবহৃত সুঁই, গজ ও তুলা সহ অন্যান্য বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বর্জ্য সংগ্রহে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা স্পষ্ট। হাসপাতালের কেন্দ্রীয় বর্জ্য সংরক্ষণ ঘরে বিভিন্ন বিভাগের রোগীদের ব্যবহৃত বর্জ্য নিয়ে আসা হয়, যেখানে সুরক্ষা ব্যবস্থা মাত্র নামমাত্র। বিভিন্ন কর্মী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করছেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বর্জ্য সংগ্রহকারীরা জানান, তারা রক্তমাখা সুঁই ও সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করছেন। একজন সংগ্রহকারী বলেন, “সব জায়গায় লাগলে তো আর ইনফেকশন হয় না। ধরুন কোনোভাবে, হাতের রগে লেগে গেল, তাহলে হবে।”
হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের কাছে পরিচালকের রুমের নিকটে চলছে এই কার্যক্রম। উচ্চ সংক্রমণের জন্য দায়ী বর্জ্য লাল ও হলুদ বিনে ফেলা হলেও, সেগুলোর ব্যবস্থাপনায় চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, “বর্জ্যের ড্রাম আলাদা রং করার কারণই প্রত্যেকটার ডিসপোজাল আলাদা আলাদা হবে। আমাদের কর্মচারীরা হয়তো ঠিকভাবে আলাদা করে রাখে না। এটা এক ধরনের দুর্নীতি।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, “মেডিকেল বর্জ্যের ব্যবস্থাপনাটা ঠিকমতো হচ্ছে না। বিভিন্ন মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে মারাত্মক সংক্রমণের যে জীবাণু তৈরি হচ্ছে সেটাকে প্রকৃতিতে ফেলে দিচ্ছি, যা পানিতে এবং বাতাসে মিশে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা বর্জ্য ফের বাজারে আনতে অসাধু চক্র কাজ করছে। পরিষ্কারের পাশাপাশি কখনো কখনো রঙ করে নতুন পণ্যের রূপ দিয়ে বিক্রিও করছে।