পিরোজপুরের আটঘর কুড়িয়ানার ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারা হাটে জমে উঠেছে পেয়ারার বিক্রি। তবে এবারের ফলন তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যা চাষিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিমাগার না থাকার কারণে প্রতিবছর কোটি টাকার পেয়ারার ক্ষতি হচ্ছে। ফলে, বাগান মালিক ও চাষিরা হিমাগার এবং জেলি কারখানা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ছোট ছোট নৌকায় সাজানো পেয়ারাগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা পেয়ারাভর্তি নৌকা নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী হাটে জড়ো হন। এখানকার পেয়ারা স্বাদে ভালো এবং আকারে বড় হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা সহ বিভিন্ন জেলায় জনপ্রিয়।
চাষিরা জানান, দাম ভালো পেলেও এবারের ফলন অনেক কম। তারা কৃষিবিভাগের নজরদারির অভাবকে এর জন্য দায়ী করছেন। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, 'পেয়ারা সংরক্ষণের উপযোগী হিমাগার তৈরি করা গেলে, কৃষকরা বছরজুড়ে সুবিধা পেতেন।'
এছাড়াও, দক্ষিণাঞ্চলের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাটের নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরাও এখানে ভিড় করেন। জেলার প্রায় ২ হাজার বাগান থেকে উৎপাদিত ৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন পেয়ারা প্রতি মৌসুমে এই ভাসমান হাটে ২০ কোটি টাকারও বেশি বিক্রি হয়।