রাজধানীর মতিঝিলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ব্যবসায়ী নেতারা শিল্পখাতকে রক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। এসময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারকে জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিশোধে ৬ মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়তি খরচ করতে হয়েছে।
ঢাকা চেম্বার অ্যান্ড কর্মাস ইন্ডাস্ট্রিস (ডিসিসিআই) আয়োজিত এই সেমিনারে ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসার পরিবেশ কঠিন হয়ে ওঠার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, সুদের উচ্চহার এবং ব্যাংকের অর্থের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা পরিস্থিতি আরো জটিল করেছে।
উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেন, দেশে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং টাকার অভাবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে না। এই প্রেক্ষাপটে আর্থিক খাতে সরকারি নীতি সহায়তার আহ্বান জানান তারা। ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত এবং অনিশ্চয়তা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিসিসিআই'র সভাপতি তাসকিন আহমেদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারি ঋণ সীমিত করে বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের তুলনায় সরকারের কোষাগারে জমা হয় অনেক কম। তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। সিপিডি'র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ৪ লক্ষ পয়েন্ট থেকে ভ্যাট আদায় হয়, কিন্তু সরকার পায় ২৪ হাজার পয়েন্ট থেকে।
অর্থমন্ত্রী জানান, তিন মাসের জ্বালানি মজুত তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করতে চাচ্ছি।"