বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে অর্থবছর শুরু হয় পয়লা জুলাই থেকে এবং শেষ হয় ৩০ জুনে। তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে অর্থবছর শুরু হবে পয়লা এপ্রিল এবং শেষ হবে ৩১ মার্চ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের যুক্তি হলো, বর্ষাকাল এবং জুন মাসে বাজেট বাস্তবায়নের চাপের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান কমে যায়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) হিসাব অনুযায়ী, ওই বছর জুন মাসে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, যা পুরো বছরের ২৮ শতাংশ। অর্থবছর পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে।
ইতিহাস অনুযায়ী, এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর নতুন নয়। মোগল আমলে রাজস্ব আদায় শুরু হতো এপ্রিল মাসে। ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন এই পদ্ধতি চালু করেছিলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থবছরের সময়কাল ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি জানুয়ারি-ডিসেম্বর চক্রে চলে, जबकि ভারত ও যুক্তরাজ্য এপ্রিল-মার্চ চক্র অনুসরণ করে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব কম হলেও, আয়কর দেওয়ার নিয়ম বদলাবে। ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল সময়কাল পরিবর্তন করলেই উন্নয়ন খাতের সমস্যা সমাধান হবে না। প্রকল্প পরিচালনার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক সমস্যা রয়ে যাবে।
সরকার ইতোমধ্যে নতুন এই চক্রে মানিয়ে নেওয়ার জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। তবে বাস্তবায়নে সঠিক সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।