ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে মার্ক অ্যান্ড কোম্পানি (এমএসডি) এবং মডার্না। এই প্রতিষ্ঠান দুটি অস্ত্রোপচারের পর উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের জন্য একটি বিশেষ ভ্যাকসিনের সঙ্গে ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দাবি করেছে।
'ইনটিসমেরান' নামের এই ভ্যাকসিনটি প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়, যা এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার ভ্যাকসিন হিসেবে চিহ্নিত করে। ভ্যাকসিনটি তৈরির জন্য প্রথমে রোগীর টিউমারের একটি অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য বিশেষ এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। ফেজ-৩ পর্যায়ের এই গবেষণায় এক হাজারের বেশি উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগী অংশগ্রহণ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর একদল রোগীকে শুধুমাত্র কিট্রুডা দেওয়া হয়, অন্যদলকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে নেওয়া রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ক্যানসারমুক্ত ছিলেন।
এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে। তবে এই সুফল কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসার বিভাগের জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, নতুন এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. লেনার্ড লিও মনে করেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে রোগীর নিজের ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা করছে মডার্না ও এমএসডি। তবে চিকিৎসাটি সাধারণ রোগীদের জন্য চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
গবেষণাটির আরও বিস্তারিত ফলাফল আগামী অক্টোবরে একটি মেডিকেল সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে মডার্না ও এমএসডি।