কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক ভবনে গাদাগাদি করে একাধিক হোটেল গড়ে উঠেছিল।
হোটেলটিতে সরু সিঁড়ি, অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচল এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় দফতরের খুব কাছে দুর্ঘটনাস্থল হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত ক্ষয়ক্ষতি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় হোটেলের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তবে, হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্র পলাতক রয়েছেন। আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তাদের পরিচয় জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনটিতে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে সেখানে গাদাগাদি করে অতিথিদের রাখা হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির সরু সিঁড়ি, বের হওয়ার পথের সমস্যা এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব ছিল। অনেক কক্ষে জানালাও ছিল না, ফলে আগুনের সময় এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।
ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য নেতা কৌস্তব চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের যোগাযোগ রয়েছে। সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কলকাতায় আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। মরদেহ শনাক্তের পর ময়নাতদন্ত চলছে এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানো হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের পর আশপাশের আরও হোটেল ও রেস্তোরাঁর দিকেও নজর দিয়েছে কলকাতা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। একাধিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।