বাংলাদেশ সরকার বন্ধ থাকা সব চিনিকল আবার চালুর পরিকল্পনা করছে। এসব চিনিকল লাভজনক করতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর কাজ চলছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের মধ্যে ৬টি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক ও আখচাষি সংকটে পড়েন। বন্ধ চিনিকলগুলো হলো শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর।
চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব চিনিকল উৎপাদনে আনার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে যুক্ত করা হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, চিনিকল চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, 'চালুর আগে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি।' তিনি চিনির উপজাত পণ্য উৎপাদনে আলাদা নজর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
চিনিকল চালু করতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখনও অনুমোদন মেলেনি।