ইরান যেকোনো ধরনের আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শীর্ষস্থানে নতুন নিয়োগ এবং গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর খবর এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকে যোগ দেন এবং দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
নতুন নিরাপত্তা পদগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কট্টরপন্থি ও প্রবীণ সামরিক কমান্ডাররা রয়েছেন। মোহসেন রেজাইকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে আইআরজিসির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
সশস্ত্র বাহিনীর নতুন জেনারেল স্টাফ, রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান এবং নৌবাহিনীর কমান্ডারও নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েবকে বাসিজ বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই রদবদল যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান এমন একটি পথ খুঁজছে, যাতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারানো ছাড়া যুদ্ধ শেষ করা যায়।
আইআরজিসি যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে আত্মরক্ষামূলক কৌশলের পাশাপাশি শত্রুর ওপর সরাসরি আক্রমণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ অন্যান্য দেশ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।