যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছেন, যা কিম জং উনের প্রতি তাঁর নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' মহড়ার সময়ই এই নির্দেশ আসে, যা ১১ দিনব্যাপী চলবে।
ট্রাম্পের দাবি, এই মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে শত্রুতার বার্তা পাঠায়। তিনি বলেন, "দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্ত হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।" এর পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়ায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত হয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে 'খুব ভালো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ সময়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এই মহড়ায় ১৮ হাজার সেনা অংশগ্রহণ করছে, যা সরাসরি উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির লক্ষ্যে।
এদিকে, উত্তর কোরিয়া আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান দ্বারা শনাক্ত হয়েছে। ট্রাম্পের এই সামরিক মহড়া সম্পর্কে মন্তব্যের পর, প্রশ্ন উঠছে কেন তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি এত নরম সুরে কথা বলছেন।
ট্রাম্প কিমের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা পূর্ববর্তী সময়ে তিনবার বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নতি করেছিল। তবে, বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে, নাকি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।