ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) মার্কিন একটি কর্মকর্তার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ইরান জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও সেখান থেকে আসা প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সমুদ্র মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ কারণেই লারাক দ্বীপে হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। তেহরান হামলার জবাব দেওয়ার এবং শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা ড্রোনের মাধ্যমে পরিচালনা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে বা বিস্ফোরিত করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান মাইন বসালে সেটি ধ্বংস করা হবে।
জুলাইয়ের শেষের দিকে ইরানে সর্বশেষ মার্কিন হামলা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে ইরানকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়, যার পর ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। এই যুদ্ধ ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তৈরি হয়েছে, যেখানে আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চিমাংশ পরিবহন করা হতো।