বাংলাদেশে ৫০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যার মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। সরকার গত কয়েক বছর ধরে এই রিকশাগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু লাখ লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত থাকায় আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এবার সরকার নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, যা রিকশার চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রঙের ই-রিকশা থাকবে। এই নীতিমালার অধীনে, এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না, অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। চালক বা মালিকদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশাগুলো চার্জ দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং পুরনো নিবন্ধনও নবায়ন করা হবে না।
এছাড়া, রিকশার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি একাধিক রিকশার মালিক হতে পারবেন, তবে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একক ব্যক্তি ৩টির বেশি মধ্যমগতির বা ৫টির বেশি ধীরগতির রিকশার মালিক হতে পারবেন না।
রিকশার গতির সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যমগতির ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার এবং ধীরগতির রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার হবে। এসব রিকশাকে নিয়মিত ফিটনেস সনদ নিতে হবে।
বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী অননুমোদিত রিকশাগুলোর জন্য সরকার এক বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে রিকশাগুলোকে নিরাপদ মডেলে রূপান্তর করতে হবে। এক বছর পর অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালায় অনিয়মের জন্য ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী জরিমানা ও জেলের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো দুর্ঘটনা কমানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করা।