সাতক্ষীরা সদর থানার হাজত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও এনিভা খাতুনকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পুলিশ দাবি করেছে, তাদের প্রত্যাহারের সঙ্গে অভিযোগগুলোর সম্পর্ক নেই।
জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ওসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা হাজতের সামনে গিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করেন।
১৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট দুপুরে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী থানায় আসছিলেন। এ সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক ব্যক্তি হাজতে এসে ভিডিও ধারণ করেন।
জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাস খানেক আগে খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি সাতক্ষীরায় এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন, যেখানে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলও ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশ করে।
সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটির নেতা-কর্মীরা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তবে সদর থানার ওসির পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়মিত বদলির অংশ।