কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১৭ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় এবং ২০১৭ সালের সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে।
ইউসিআর বলেছে, মিয়ানমারের বিবৃতিটি ইতিহাস বিকৃত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করে, রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে।
২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে মিয়ানমার ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ইউসিআর একে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনটির দাবি, ওই অভিযানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
মিয়ানমারের দেয়া তথ্যের সমালোচনা করে ইউসিআর জানায়, ২০১৭ সালে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। রাখাইন রাজ্যে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ‘যাচাইকরণ’ প্রক্রিয়াকে ইউসিআর প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে ইউসিআর বলেছে, রাখাইন রাজ্যে অবস্থান করলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের আইনি নিশ্চয়তা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর তত্ত্বাবধান ছাড়া রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে ফিরবে না।
বিবৃতিতে ইউসিআর মিয়ানমারকে ‘অপপ্রচার’ বন্ধ করে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার, পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর দাবি করেছে।
গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গা জনগণের পরিচয় ‘বাঙালি’ হিসেবে দাবি করে একটি নতুন বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই ফেরত নেওয়া হবে।