মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে হোটেলে আগুন, নিহত ৭ পশ্চিমবঙ্গের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের মৃত্যু ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী জিম্বাবুয়েতে নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাওয়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে হারিকেন ‘লালা’, জরুরি অবস্থা ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, আহত শতাধিক ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ৫১ জনের মৃত্যু, হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭, ১৫০ ভবন ধসে পড়েছে চট্টগ্রামে গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, ফেরদৌস স্টিলের কার্যক্রম স্থগিত ভার্জিনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিতে পাঁচজন আহত
অপরাধ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটের বিস্তার ও পাচার চক্রের রহস্য

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটের বিস্তার ও পাচার চক্রের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটের বিস্তার ও পাচার চক্রের রহস্য

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি নতুন জুয়ার সাইট খুলছে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র, যা প্রযুক্তির চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ৫৮৬টি জুয়ার সাইট। এসব সাইটে অবৈধ লেনদেনের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা গায়েব হচ্ছে।

সিআইডির এক সাম্প্রতিক অভিযানে ২৫০ কোটির পাচার রহস্য উন্মোচিত হয়। ৬ মে এবং ১৭ মে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের পরিচালিত চারটি জুয়ার সাইটের সাথে রাশিয়ার একটি শক্তিশালী গ্যাংয়ের সম্পর্ক রয়েছে।

এই গ্যাং দেশীয় এজেন্ট ও সাব-এজেন্টদের মাধ্যমে সাধারণ জুয়াড়িদের কাছ থেকে বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করত। এরপর সেই টাকা ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো। সিআইডির তথ্যমতে, এই চক্রটি প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাচার করেছে। বর্তমানে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যৌথভাবে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার কাজ করছে।

জানা গেছে, জুয়ার সাইটগুলো রিমোটলি নিয়ন্ত্রণ করা হয় রাশিয়া, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সাইবার পুলিশ সেন্টার প্রতিনিয়ত সাইবার প্যাট্রোলিং করে বিটিআরসিকে তালিকা দিচ্ছে। বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১০৯টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও ৪৫০টি অবৈধ অ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে।

তবে, সাইট বন্ধ করার পরও নতুন সাইট খোলার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যখন একটি সাইট বন্ধ হয়, অপরাধীরা দ্রুত ব্যবহারকারীদের মোবাইলে নতুন সাইটের লিংক পাঠায়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদ ও আইনজীবীদের মতে, শুধুমাত্র সাইট বন্ধ করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পুরো চেইনকে একসাথে আইনের আওতায় আনতে হবে, যা জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

বিজ্ঞাপন