রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সোমবার সকালে ঢাকার ৪৭ কিলোমিটার দূরে ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর অন্তত ৮ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
তারা সতর্ক করেছেন যে, যদি সাত থেকে সাড়ে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে নগরীজুড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকার নিকটবর্তী নরসিংদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
গত দুই বছরে রাজধানীতে ১০টি ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ স্থানীয় ফল্ট লাইনে। সোমবার ভোরে হওয়া ৩ মাত্রার ভূমিকম্পও এই পরিসংখ্যানের অংশ।
ঢাকা ও এর আশপাশে ২১ লাখের বেশি বহুতল ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবন নির্মাণে কোনো না কোনো অসঙ্গতি রয়েছে, দাবি করেছে রাজউক। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক ভবন জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে, যা বড় ভূমিকম্পের সময় মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
অপরিকল্পিত নগরায়নও এই ঝুঁকির একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের তদারকিতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে রাজউক। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পাশাপাশি বিল্ডিং কোড মানা, ভবনের নিরাপত্তা যাচাই এবং তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবিদরা।