ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট সেবা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। জনবল সংকটের কারণে তারা পর্যাপ্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না, ফলে সময়মতো পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্ট করতে পারছেন না।
প্রবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন হলেও দূতাবাসের সক্ষমতা অনুযায়ী মাত্র ৮০ জনকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক আবেদনকারী সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীরা জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা নতুন পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ার কারণে তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম আটকে যাচ্ছে। ফলে অনেকে ফ্রান্সে তাদের বৈধতা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।
এদিকে, এ সংকটের কারণে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ প্রবাসীরা। তারা জানান, কিছু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুযোগ নিচ্ছেন।
প্রবাসীদের মতে, ফ্রান্সে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে পাসপোর্ট, ভিসা, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ওপর দূতাবাসের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু জনবল ও সেবার সক্ষমতা না বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
দূতাবাসের জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে কিছু রাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক দূতাবাসে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। প্রবাসীদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
প্রবাসীরা দাবি করেছেন, দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, পাসপোর্ট অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তারা দালালচক্রের অভিযোগ তদন্ত করে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পাসপোর্ট সেবার সংকট নিরসনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেবে।