সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একসাথে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। নিহত শ্রমিকরা একটি মেয়াদ শেষ হওয়া জাহাজ কাটার সময় বিষক্রিয়ার শিকার হন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র কিছুদিন আগে ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে মামলা দায়ের করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। তবে, তাতে সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২৫ বছরের পুরনো এমটি রাসি জাহাজটি গত বছরের জুলাইয়ে সীতাকুণ্ডে আনা হয় এবং প্রায় এক বছর ধরে এটি কাটার কাজ চলছিল।
শুক্রবারের দুর্ঘটনায় কর্মরত শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটেছে বিষক্রিয়ার কারণে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে আলোচনা করা হয়েছিল।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ছুটির দিনে জোর করে কাজ করানোই এই প্রাণহানির কারণ। একজন শ্রমিক জানান, মাঝে মাঝে তাদেরকে শুক্রবারেও কাজ করতে বাধ্য করা হয়, অন্যথায় শনিবারের জন্য অনুপস্থিতি দেওয়া হয়।
শিপ ব্রেকিং শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম শহীদ উল্ল্যাহ বলেন, যেকোনো জাহাজ কাটার জন্য অনুমতি লাগে এবং বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন পরিদর্শনে আসে। কিন্তু শ্রমিক প্রতিনিধিদের পরিদর্শনের সুযোগ নেই।
শিপ ব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সব নিরাপত্তা সনদ ও ছাড়পত্র ছিল। তবে দুর্ঘটনায় শ্রমিক ও মালিক উভয়েরই দায় রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা।
সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে গত তিন বছরে দুর্ঘটনায় ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।