বাগেরহাটের অরিত্র সরকার এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সকলের নজর কেড়েছে। বাবা-মা হারানোর পরেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে।
অরিত্র সরকার বাগেরহাট শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই ফলাফল অর্জন করে। তার বাবা উৎপল সরকারের মৃত্যুতে সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। দুই বছর পর মা নমিতা সরকারেরও মৃত্যু ঘটে, যা তাদের জীবনে নতুন এক সংকট সৃষ্টি করে।
অরিত্র বলেন, “আমরা চারজনের একটি পরিবার ছিলাম। বাবা মারা যাওয়ার পর সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। কিন্তু আমি লেখাপড়া চালিয়ে গেছি।” তিনি জানান, বাবার রেখে যাওয়া দোকান চালু করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে তা বন্ধ করতে বাধ্য হন।
অরিত্রের বড় ভাই অর্ণব সরকার বলেন, “ভাইয়ের সাফল্যে আমি অনেক খুশি। কিন্তু একই সঙ্গে শোকে আটকে যাই। আমার মা মারা যাওয়ার সময় আমি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।” তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন যাতে অরিত্র তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
প্রতিবেশি গোপাল সাহা বলেন, “অরিত্রর ফলাফল আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সে বাবা-মার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে।” তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাগেরহাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কাজী মোতাছিমুল হক বলেন, “অরিত্রের ইচ্ছাশক্তির কাছে সবাই হার মেনেছে। তার লেখাপড়া যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”