মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৫ আগস্ট) জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধের কারণে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরান বর্তমানে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায়ের দাবি করছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হলে ‘আগামীকাল কিংবা পরদিনই’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় সংশ্লিষ্টরা সেদিন ‘খুব ভালো একটি দিন’ পার করেছেন।
ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করেন, ‘খুব শিগগিরই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে। তা না হলে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘একমাত্র পথ হলো লড়াই করে বেরিয়ে এসে ডিল করা।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বুধবার কিংবা বৃহস্পতিবারের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি, এমন সম্ভাবনা প্রবল।’
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর এর এক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে লোহিত সাগরে অজ্ঞাত হামলার পর একটি ভারতীয় জাহাজ ডুবে যায়।
ট্রাম্পের ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন নয়। গত সপ্তাহেও তিনি তেহরানকে ‘খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার দাবি করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা 'চলছে না'।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রও সম্পৃক্ত রয়েছে।
কাতার উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্প কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন এবং দুই নেতা ‘উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা’ নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হতে পারে, যা ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্প বলছেন, এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
যুদ্ধের পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। তবুও ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে লোহিত সাগরের নৌপথের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে।