বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদ মোজতবা খামেনির অবস্থান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কোনো ফোন, ল্যাপটপ বা ডিজিটাল সিগন্যাল নেই।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন খামেনি। তবে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি। দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোসাদ এবং সিআইএ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রায় ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেননি। ফলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্তের মতো কোনো ডিজিটাল সূত্র পাচ্ছে না।
ইরান নাকি পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাই বদলে দিয়েছে। বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে, যা একাধিক কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছায়। ফলে গোয়েন্দাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গোয়েন্দাদের ধারণা, মোজতবার কাছাকাছি পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হতে পারে তাঁর অভ্যন্তরীণ বৃত্তের কাউকে তথ্যদাতা হিসেবে পাওয়া। কিছু সূত্র মতে, মোজতবা হয়তো হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন অথবা তিনি বেঁচেই নেই।
মোজতবার সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে তেহরানের ভূগর্ভস্থ টানেল এবং নিরাপত্তাবেষ্টিত বাংকারের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিভ্রান্তি তৈরি করতে 'বডি ডাবল' ব্যবহার করা হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে খুব কম তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মাঝে মাঝে লিখিত বার্তা প্রকাশ হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কোনো প্রকাশ্য ভিডিও বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই নীরবতাই রহস্য আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এখন প্রশ্ন হলো, মোজতবা খামেনি সত্যিই কি ভূগর্ভস্থ কোনো বাংকারে লুকিয়ে আছেন? নাকি গোটা বিশ্ব এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি আদৌ সেখানে নেই?