বাংলাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রী নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার অভাব নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি বিআরটিএ ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রযুক্তি কি সত্যিই যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সক্ষম হবে?
জিপিএস প্রযুক্তি মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে। একটি জিপিএস ট্র্যাকার গাড়িতে বসানো থাকলে এটি ২৪ ঘণ্টা গাড়ির অবস্থান মনিটর করে এবং ডেটা সার্ভারে পাঠায়। এতে লাইভ ট্র্যাকিং, ওভারস্পিড অ্যালার্ট, ইঞ্জিন লক ও আনলক, জিওফেন্সিং, ট্রিপ ও ডিস্ট্যান্স রিপোর্ট, এবং ফুয়েল রিপোর্টের মতো সুবিধা রয়েছে।
বিআরটিএর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৪১টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ডিভাইসটি গণপরিবহনে সংযুক্ত করতে হবে। খরচ সাড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসিক সার্ভিস চার্জ ৩৩৩ টাকা। তবে বাস্তবে অনেক চালক ও মালিক এখনও এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন নয়।
মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য আসা বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে গড়ে ১৫টি বাস আসত, সেখানে এখন মাত্র দুটি বাস আসছে।
জিপিএস প্রযুক্তি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি রুট মনিটরিং ডিজিটালাইজ করে, যা বেপরোয়া রেষারেষি কমাতে সাহায্য করবে। লাইভ ট্র্যাকিং ও জিওফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত রুটের বাইরে যাওয়া বাস সহজেই শনাক্ত করা যাবে।
এছাড়াও, যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে এই প্রযুক্তি কার্যকর হবে। যাত্রীরা বাসের অবস্থান জানতে পারলে পরবর্তী বাসের আগমন সময় সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন।
বিআরটিএর এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে, এটি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।