ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংস্থাটির কাউন্সিলের একাংশ। তারা জরুরি সাধারণ সভা (ইজিএম) ডাকার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে। রবিবার (২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অভিযোগে মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্তের দাবি থেকেই বিদ্রোহের সূচনা। বিদ্রোহী কাউন্সিল সদস্যদের অভিযোগ, একাধিক ফোনালাপের পর নজিরবিহীনভাবে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলে অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ১৯ সদস্য সমর্থন দিলে জরুরি সাধারণ সভা ডাকা সম্ভব। জানা গেছে, ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার আগেই বিদ্রোহীদের সমর্থন দ্বি-অঙ্কে পৌঁছে গিয়েছিল।
সম্প্রতি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপ পরিচালনাকারী নতুন একটি কোম্পানির ২০ শতাংশ শেয়ার মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'থ্রাইভ ক্যাপিটাল'-এর কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন। এ প্রতিষ্ঠানটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত। তবে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিফা সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।
বিদ্রোহী সদস্যরা চান, বালোগান ইস্যুতে স্বাধীন তদন্ত হোক। ইনফান্তিনো রাজি না হলে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হতে পারে। বিকল্প সভাপতি প্রার্থীর খোঁজও শুরু হয়েছে। ইনফান্তিনোর পক্ষে রয়েছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ), দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এবং কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিদ্রোহীরা তার আগেই জরুরি সভা ডাকার চেষ্টা করছেন। ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন পেলে জরুরি ফিফা কংগ্রেস ডেকে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনার পথও খোলা রয়েছে।