বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ, যা চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়, বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা ও উয়েফার মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন। এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে বিশ্বকাপের বর্তমান কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
উয়েফা, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, ‘ফুটবল বিক্রি করার মতো সম্পদ নয়।’ এমনকি, ইউরোপের দেশগুলো যদি এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
ফিফার পরিকল্পনার মূল বিষয় হলো নতুন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা—‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই)। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যার মধ্যে থাকবে টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং লাইসেন্সিং চুক্তি।
ফিফা এই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে চায় এবং এর বিনিময়ে পাওয়া অর্থ বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, কেন হঠাৎ এমন পরিকল্পনা? অনেকের মতে, ফিফা বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে আরও বড় বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত হতে চাইছে। ইউরোপের ৫৫টি দেশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও, এশিয়া, আফ্রিকা ও কনকাকাফ অঞ্চলের অনেক দেশ এই অর্থনৈতিক সুবিধাকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
ফিফার এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিরোধী উয়েফা, কারণ ইউরোপই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী অঞ্চল। তাদের আশঙ্কা, ফিফা যদি বিশ্বকাপের নিয়ন্ত্রণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়, তাহলে ফুটবলের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোকে চিঠিতে জানিয়েছেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উয়েফা বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকিকে আরও শক্তিশালী করতে চেষ্টা করবে।
এদিকে, ফিফার নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের মতো অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হতে পারে। তবে ইউরোপ ছাড়া বিশ্বকাপের আকর্ষণ অনেক কমে যাবে।