রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়লাভ করে। এক বছরের মেয়াদী এই কমিটির হাতে রয়েছে এখন মাত্র ৩ মাস।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তারা জানান, ইশতেহারে ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারসহ ১০৭টি কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ভোটের আগে অধিকার রক্ষার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, তা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রাকসুর নেতারা নিজেদের দলীয় ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা যেমন আবাসন, খাদ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, "আমাদের প্রধান সমস্যাগুলো এখনও আগের মতোই রয়ে গেছে।" অন্যদিকে, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেছেন, তারা ইশতেহারের প্রায় ৫৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং ৪১ শতাংশ কাজ চলমান রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, প্রশাসন সহযোগিতা করছে না এবং ভিসি স্যারের বক্তব্যে সেটাই উঠে এসেছে। তিনি বলেন, "রাকসুর কর্তৃত্ব আলাদা, প্রশাসনের কর্তৃত্ব আলাদা।" তবে শিক্ষার্থীদের মতে, প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ রাকসুর গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট সব কাজে রাকসু বাস্তবায়ন-সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।