ভারতের সংসদে রাজনৈতিক ভাষায় একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ল্যাং শব্দগুলো এখন সংসদীয় আলোচনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে ‘ডেলুলু’, ‘ক্লক ইট’, ‘এফওএমও’, ‘এমআইএ’, ‘কুচু-পুচু’ ও ‘ভাস্তেগুনা হুইয়া’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিরোধী নেতা ‘এমআইএ’ বা ‘মিসিং ইন অ্যাকশন’ হয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে ‘এফওএমও’ বা ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’-এর কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমস্যাকে ‘ক্লক ইট’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা সঠিকভাবে সমস্যা শনাক্ত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিজেপির তেজস্বী সূর্য বিরোধীদের ‘ডেলুলু’ বা বাস্তবতা-বিবর্জিত হিসেবে উল্লেখ করেন। কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডা সংসদে ‘কুচু-পুচু’ ও ‘ভাস্তেগুনা হুইয়া’ শব্দগুলো ব্যবহার করে সরকারের সমালোচনা করেন। এই পরিবর্তন সংসদের প্রচলিত ভাষা ও শৈলীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
‘ক্লক ইট’ শব্দটির উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান-আমেরিকান বলরুম সংস্কৃতিতে, যেখানে কাউকে ‘ক্লক’ করা মানে তার কোনো ভুল ধরিয়ে দেওয়া। বর্তমানে এটি জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে কোনো বিষয় বুঝে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ‘ডেলুলু’ শব্দটি ইংরেজি ‘ডিলিউশনাল’ থেকে এসেছে এবং এটি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, ‘এফওএমও’ শব্দটি ২০০০ সালের দশকের শুরুতে মনোবিজ্ঞান ও বিপণন জগতে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ‘এমআইএ’ শব্দটি মূলত সামরিক পরিভাষা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অর্থ পেয়েছে। ‘কুচু-পুচু’ শব্দটি আদুরে ভাষার একটি রূপ এবং বর্তমানে এটি ব্যঙ্গের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
‘ভাস্তেগুনা হুইয়া’ ভাইরাল মিম ‘ক্যান আই গেট এ হুইয়া?’ থেকে এসেছে এবং এটি বিভ্রান্ত প্রতিক্রিয়া ও হাস্যরসের কারণে জনপ্রিয় হয়েছে। ভাষাবিদদের মতে, এই ভাষাগত পরিবর্তন আকস্মিক নয়, বরং তরুণদের জন্য রাজনীতির ভাষা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পৌঁছানোর একটি কৌশল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রাম রিল ও ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক যোগাযোগের এ ধরনের নতুন কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।