গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সোলো নারী ট্রাভেলারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একা বা বান্ধবীদের সঙ্গে ভ্রমণে বের হওয়া নারীদের জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সামাজিক মাধ্যমে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এবং ট্রাভেল কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া এই প্রবণতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
যাত্রার আগে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গন্তব্যের সংস্কৃতি, পোশাক-রীতি ও সামাজিক নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া উচিত। ফেসবুক গ্রুপে বা ট্রাভেল কমিউনিটিতে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা খোঁজার মাধ্যমে বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।
থাকার জায়গা যাচাই করার সময় হোটেল বা হোস্টেলের রিভিউ পড়া উচিত, বিশেষ করে অন্য নারী ভ্রমণকারীদের মন্তব্য খুঁজে দেখা প্রয়োজন। ২৪ ঘণ্টা রিসেপশন আছে কিনা, এসব খুঁটিনাটি নিশ্চিত করা ভালো।
ভ্রমণসূচি পরিবার বা বিশ্বস্ত বন্ধুর কাছে জানিয়ে রাখা উচিত। হোটেলের ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর শেয়ার করে রাখলে নিরাপত্তা বাড়ে। প্রতিদিন একবার লোকেশন জানানোর একটি রুটিন তৈরি করা দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
অপরিচিত স্থানে রাতে পৌঁছানো এড়িয়ে চলা উচিত। ফ্লাইট বা বাসের সময় এমনভাবে ঠিক করা উচিত যাতে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় অন্ধকার না নেমে আসে।
যাতায়াতের জন্য রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। রাস্তার পাশ থেকে এলোমেলো যানবাহনে ওঠা এড়ানো উচিত। মূল্যবান জিনিস ও কাগজপত্র আলাদা রাখতে হবে।
সামাজিক পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সরাসরি 'না' বলা উচিত। পরিচিত হওয়ার আগ্রহ দেখানো কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য না জানানোই বাঞ্ছনীয়।
সোলো নারী ভ্রমণকারীদের জন্য তৈরি কনটেন্ট ও ট্যুর প্যাকেজের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। বাংলাদেশেও কর্মজীবী নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মাধ্যমে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ারের সংস্কৃতি এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে।