সুন্দরবন, প্রকৃতির এক অনন্য লীলাভূমি, যেখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণ মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের দুটি রেঞ্জে বাঘের অবাধ বিচরণ বনবিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাঘের দেখা পাওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, "বাঘগুলো এখন বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমনকি অফিস ক্যাম্পাসেও চলে আসছে। তিন মাস ধরে বনে কোনো জনসমাগম নেই, ফলে বাঘগুলো নিজেদের আবাসস্থল মনে করে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করছে।"
এছাড়া, বনকর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে, বনে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তিনি বলেন, "আমরা জানি, হরিণ বাড়লে বাঘও বাড়ে। তাই আমরা মনে করছি, বনে বাঘ ও হরিণ দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।"
২০২৭ সালে পরবর্তী বাঘ জরিপ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২০২২–২৩ সালে অনুষ্ঠিত জরিপে পূর্ণবয়স্ক বাঘের সংখ্যা ১২৫টি ছিল। মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বনবিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে পর্যটকদের সুন্দরবন দর্শনের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্লান ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান রয়েছে। তবে, পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "বনবিভাগ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পর্যটকদের বিচরণ করতে দেয়, কিন্তু কাউকেই গহীন জঙ্গলে ঘোরাঘুরির অনুমতি দেওয়া হয় না।"