দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চিকিৎসার পর একটি বাঘিনীকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হলো। জানুয়ারিতে পূর্ব সুন্দরবনের শরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারে ফাঁদে আটকা পড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি। ৬ মাস চিকিৎসার পর আজ দুপুরে তাকে আবার তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রোববার ভোরে খুলনা থেকে বাঘিনীটিকে মোংলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি বিশেষ খাচায় করে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে পৌঁছানো হয়। দুপুর ১২টার পর প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বন কর্মকর্তা এবং গবেষকদের উপস্থিতিতে বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে মুক্ত করা হয়।
বন বিভাগের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটোয়ারি জানান, বাঘিনীর বিচরণের প্রায় ৯০ কিলোমিটার এলাকায় ২০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে পরবর্তীতে বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ব সুন্দরবনে শিকারির ফাঁদে আটকা পড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসার পর আজ ফিরেছে তার আবাসস্থলে। ৩ জানুয়ারি দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালের কাছে শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকে পড়ে বয়স্ক বাঘিনীটি।
৪ জানুয়ারি বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল বাঘিনীটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা করেন।
বন বিভাগের আরও তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকালে বাঘিনীটি ছিল নিস্তেজ, দুর্বল ও ক্ষীণকায়। তার সামনের বাম পায়ে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে মার্চ মাসের দিকে ঘা শুকিয়ে যায়। বর্তমানে বাঘিনীটি সুস্থ হয়ে আগের চেহারায় ফিরেছে এবং তার ক্ষিপ্রতাও বেড়েছে।