গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের কারণে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, গবেষণাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও, গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা ছিল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসাবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের মতো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণনির্ভর বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
ইসরায়েলি হামলায়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ১৯টি শিক্ষাভবন ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৫০০টি শ্রেণিকক্ষ, ২০০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার এবং ৭৫টি কম্পিউটার ল্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হারিয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি বই ও গবেষণা সামগ্রী।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুল রউফ আল-মানামা বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সময়গুলোর একটি। তিনি জানান, হামলায় শুধু ভবন নয়, গবেষণার সরঞ্জাম ও জ্ঞানভাণ্ডারের বড় অংশও ধ্বংস হয়েছে।
যুদ্ধের সময় ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও শ্রেণিকক্ষের সংকট শিক্ষা কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউনেসকোর যৌথ মূল্যায়নে দেখা গেছে, গাজার অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভার্চুয়াল সিমুলেশন ও ভিডিওভিত্তিক পরীক্ষা ব্যবহার করে সংকট মোকাবেলার চেষ্টা করছে। তবে আল-মানামার মতে, এসব ব্যবস্থা সাময়িক সমাধান মাত্র। বাস্তব ল্যাবরেটরির অভিজ্ঞতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তৈরি করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী দিমা মুহাইসেন জানান, যুদ্ধের কারণে তার পড়াশোনার বড় অংশ হাসপাতালকেন্দ্রিক বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর চলে গেছে। তিনি বলেন, 'অনেক সময় হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়েছে।'
ইয়াসিন বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ভবন পুনর্নির্মাণ করলেই সংকটের সমাধান হবে না। প্রয়োজন নতুন গবেষণাগার ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। তবে গাজার চলমান অবরোধের কারণে এসব সরঞ্জাম আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।