ভারতের তাজমহল, যা ৪০০ বছর ধরে প্রেমের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ তাজমহলকে নিয়ে যে দাবি খারিজ করেছে, তবুও এটি নিয়ে আলোচনা থামছে না।
তাজমহলের বিরুদ্ধে উঠা বিতর্কের মূল কারণ হলো ইতিহাসের রাজনৈতিকীকরণ। বর্তমানে ভারতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ান তৈরি হচ্ছে, যা মুসলিম শাসনকালকে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের সাথে যুক্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটে তাজমহল, ভারতের মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম গৌরব, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
পিএন ওক নামক এক ব্যক্তি ১৯৬৫ এবং ১৯৮৯ সালে তাজমহলকে শিবমন্দির হিসেবে দাবি করে বই প্রকাশ করেন। যদিও ইতিহাসবিদেরা তাঁর দাবি খারিজ করেছেন, তার প্রপাগান্ডা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ, যারা ইতিহাসের সাথে পরিচিত নয়, তারা এই মিথ্যাচারে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
তাজমহলের ২২টি বন্ধ কক্ষ নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়, তা মূলত সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। ইতিহাসবিদরা জানান, এই কক্ষগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে স্থাপনার স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য, কিন্তু প্রপাগান্ডাকারীরা এটিকে ধর্মীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রচার করছেন।
ভারতের সংবিধানে ‘প্লেস অব ওরশিপ অ্যাক্ট, ১৯৯১’ নামে একটি আইন আছে, যা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু সম্প্রতি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর চরিত্র বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল।
রাজনীতি আসবে এবং যাবে, কিন্তু তাজমহল ৪০০ বছর ধরে ভারতের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। এটি শুধুমাত্র পাথরের একটি স্থাপনা নয়, বরং ভালোবাসার ইতিহাস এবং নিখাদ শিল্পের প্রতীক।