ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিয়ে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়ার আগেই প্রচারণা জোরদার করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন, দমন-পীড়ন ও সহিংসতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রচারণায় এআই-নির্মিত ভিডিওগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ভিডিওতে ডানপন্থি সমর্থকদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে গাদি আইজেনকটকে বামপন্থি ও ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনীতিক মানসুর আব্বাসের জন্য একটি ‘ট্রয়ান হর্স’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের প্রচারেও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।
বেন-গভিরের বিতর্কিত প্রচারণার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের দৃশ্য রয়েছে। সম্প্রতি তিনি যে ভিডিওটি প্রকাশ করেন, তাতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের একটি কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। ভিডিওটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে এটি লাখ লাখ বার দেখা ও ডাউনলোড হয়ে যায়।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ডানপন্থি দলগুলোর মধ্যে ভোটের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। নেতানিয়াহু ডানপন্থি দলগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন, কারণ ছোট দলগুলো প্রয়োজনীয় ভোট না পেলে ভোট বিভক্ত হয়ে যেতে পারে।
এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কট্টর ডানপন্থি নেতারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও নতুন করে সামনে এসেছে, যা বেন-গভিরসহ নেতানিয়াহুর মিত্রদের সমর্থন রয়েছে।