সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

ভোলায় মেঘনা নদীর ভাঙন: জরুরি পদক্ষেপের দাবি

ভোলায় মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে, জরুরি পদক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের।

ভোলায় মেঘনা নদীর ভাঙন: জরুরি পদক্ষেপের দাবি

ভোলায় টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে জেলা শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরের শিবপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার।

শিবপুর ইউনিয়ন, যা ভোলাখাল ধান, সুপারি ও ইলিশ কেনাবেচার জন্য সুপরিচিত, বর্তমানে মেঘনার নির্মম থাবায় আক্রান্ত। চলতি বর্ষায় নদী তীরবর্তী ১ কিলোমিটার এলাকার হাট-বাজার, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি মেঘনার গর্ভে চলে গেছে।

গত দুই দশকে পাশ্ববর্তী মেদুয়া ও ধনিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। স্থানীয়দের দাবি, যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে খোদ ভোলা জেলা শহরও বিলীন হতে শুরু করবে।

গত ১৫ বছরে নদীতীর সংরক্ষণে খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ ও ৬ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসনে একটি বড় প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভোলা-১ আসনের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, ‘ভোলার ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চলছে। এর মধ্যে শিবপুরকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।'

তিনি আরও জানান, গত ২ বছরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে ৬৮৫ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভাঙন বন্ধ হবে।

নদীবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলার ৫০০ কিলোমিটার নদী তীরের মধ্যে সদর উপজেলায় ৬০ কিলোমিটার পাড় অরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভোলা শহর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন