সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের আন্দোলন

২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের আন্দোলন ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের আন্দোলন

২০২৪ সালের ২৬ জুলাই, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় বিএনপি। এর পরপরই ছাত্রদল তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে রাজপথে কর্মসূচি পালন শুরু করে।

ছাত্রদলের নেতারা জানান, আন্দোলনকালে শহীদ হয়েছেন ১৪২ নেতা-কর্মী এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪ হাজার। গুম এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন শতাধিক নেতা-কর্মী। জুলাই মাসে আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীরা গুলি চালায়।

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু জাফর জানান, পুলিশি হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ২৪ জুলাই তাঁকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। দুই দিন নির্যাতনের পর ২৬ জুলাই তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। যদি আমি উঠতে না পারতাম, তাহলে হয়তো শহীদের খাতায় নামও চলে যেত।’

গণ-অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই সারা দেশে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। যোগাযোগের জন্য তারা পকেট রাউটার ব্যবহার করতেন এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আগে থেকেই অ্যাম্বুলেন্স ও ভ্যান ভাড়া করে রেখেছিলেন।

ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে বুলেট দেওয়া হয়েছিল, যাতে ম্যাস মোবিলাইজেশন কন্ট্রোল করা যায়। একেকটি ভ্যান গুলিবিদ্ধদের নিতে ৮ থেকে ১০ ট্রিপ দিত।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে নির্দেশনা পেতেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আবু জাফর বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথম প্রশ্ন ছিল – তারেক রহমানের সাথে তোর কী কথা হয়েছে, বল!’

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান তাঁকে বলেছিলেন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নাও, কিন্তু রাজপথ ছাড়া যাবে না। শ্যামল মালুম জানান, ‘প্রত্যেকটি বিষয়ে আমরা তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগ রাখতাম। তিনি আমাদের সবকিছু আপডেট জানতেন।’

নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করছে এবং তারা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন