মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা ভাবলেই সবার আগে আসে দেশটির নাম। কিন্তু সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় লাখো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা নীতির ফলে কি তাদের জন্য পড়াশোনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ থেকে ৬টি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমত, ভিসার মেয়াদ কমিয়ে ৫ বছর থেকে ৪ বছর করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' সীমিত করা হয়েছে; এখন ৪ বছর পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে সময় বাড়ানোর জন্য সরাসরি মার্কিন ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।
চতুর্থ পরিবর্তনটি হল গ্রেস পিরিয়ড অর্ধেক করা হয়েছে; আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, এখন তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলোর ফলে পিএইচডি ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই কঠোর নিয়মের উদ্দেশ্য হল ভিসার অপব্যবহার রোধ করা। যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী, তাদের জন্য ভিসা এক্সটেনশন পেতে সমস্যা হবে না। তবে, নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতে না পারলে বিপদ বাড়বে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচনের সময় ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও গত দুই বছরে অনেক অভিবাসন নীতি আদালতে বাতিল হয়েছে, তবে এই নতুন নিয়ম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
যারা সততার সঙ্গে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় যাচ্ছেন, তাদের জন্য সুযোগ এখনও রয়েছে। নিয়ম মেনে চললে আমেরিকার দরজা খোলা আছে।