চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এতিমখানার জন্য সরকারি বরাদ্দের এক টন করে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগের পর অভিযুক্ত উপজেলা যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা গত দুই দিনে উপজেলার ২০টিরও বেশি এতিমখানায় গিয়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে বিতরণ করেছেন এবং দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ৪৬টি এতিমখানার জন্য বরাদ্দকৃত ৪৬ টন চালের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাকি চালের মূল্য আত্মসাৎ করা হয়েছে।
কিছু এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানান, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অভিযুক্ত পক্ষ তাদের কাছে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করেছে। তারা দাবি করেন, এক টন চালের পরিবর্তে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।
সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি নুরুল আমীন মাস্টার বলেন, “এতিমদের স্বার্থে বারবার অনুরোধ করেও কোনো ফল পাইনি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়েছে।”
কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মানঞ্জুর হাফিজিয়া মাদরাসার সভাপতি বাহাউদ্দিন জানান, প্রথমে এক টন চালের পরিবর্তে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং পরে আরও ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেন মোল্লা বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।