ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ষা উদযাপনের উৎসব, যার নাম 'ঘনঘটা'। এই উৎসবে বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতি ও লোকঐতিহ্যকে নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় ঘনঘটা উৎসবে অংশ নেন ৩০০ জন নৃত্যশিল্পী, যাদের বয়স ৩ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছিল।
উৎসবটি সকাল ১১টায় চারুকলার বকুলতলায় শুরু হয়। বর্ষার মেঘের ছায়ায় নৃত্যশিল্পীরা একত্রিত হয়ে নাচের মাধ্যমে বর্ষাকে বন্দনা করেন। আয়োজনে উপস্থিত দর্শকদের জন্য ছাতা আনা নিষেধ ছিল, ফলে পুরো বকুলতলা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “কে কোন ধর্মের, কার দেশের বাড়ি কোথায়, এসব কিছুই মানে রাখে না। নাচটাই আমাদের একত্রিত করে।” আরেকজন জানান, “আকাশে যখন মেঘ জমে, তখন আমাদের মনে মেঘ জমে থাকে। বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের মনেও নাচন শুরু হয়।”
এই আয়োজনে নতুন প্রজন্মের কাছে বৃষ্টির সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। একজন দর্শক বলেন, “ঋতুকে উদযাপন করা, বর্ষাকে যাপন করা আমাদের মনে থাকে, কিন্তু আমরা পারি না।”
আয়োজকরা জানান, বাংলায় আবহমান কাল থেকেই ঋতুভিত্তিক উৎসবের চল আছে এবং বর্ষার আবেদন সবসময়ই ভিন্ন। নৃত্যশিল্পী অর্থি আহমেদ বলেন, “শিল্প, সংস্কৃতি, গান, নাচ – এগুলো বাঙালির রক্তে মিশে আছে। এই উৎসবগুলো যতদিন বেঁচে থাকবে, আমরা ততদিন বেঁচে থাকবো।”
বর্ষা উৎসবে বন্যার্তদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করা হয়। মানবতার টানে দর্শনার্থীরা সেখানে সাধ্যমতো অংশ নেন।