নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগগুলো কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, বাজার থেকে খাদ্য পণ্য তুলে নেওয়া ও লাইসেন্স বাতিল করেই দায় সারছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, খাবারে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু এর বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির অভাব রয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএফএসএ, সম্প্রতি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের দায়ে কাস্টার্ড কেক ও পাউরুটি বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জনসাধারণকে এসব পণ্য কেনা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, "আমাদের দেশে খাবারের মধ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।"
তিনি আরও জানান, খাবারকে অতিরিক্ত সুস্বাদু করতে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর ব্যবহারও গ্রহণযোগ্য নয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. রেজাউল করিম এনডিসি জানান, দেশের খাদ্য বিক্রয়, প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা শুরুর জন্য আলাদা লাইসেন্স নিতে হয় না। এর ফলে খাবারে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, "খাদ্য ব্যবসার সুশীল ব্যবস্থাপনা নেই। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে খাদ্য নিরাপদ করা সম্ভব নয়; এটা একটি প্রক্রিয়ার বিষয়।"
নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করে ৩৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, কিন্তু তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।