জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বেতারে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নাট্যকার ও আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম তথ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন, যেখানে তিনি ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের দাবি করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীরা এবং কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গত ১৭ বছরে বেতারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। জোবাইদুল ইসলাম বলেন, "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার গুণকীর্তনে গান-নাটক তৈরি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।"
তিনি আরও দাবি করেন, শাহবাগ বেতার কেন্দ্রের দখল নিয়ে অভিযোগ করেছেন, যেখানে শেখ হাসিনা তার মেয়ে পুতুলের প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনের নামে কেন্দ্রটি দখল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে লুটপাট হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেতারের স্টুডিও সংস্কার প্রকল্পে ৭৯ কোটি টাকা খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিবছর বাজেটে ২০ কোটি টাকা যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য বরাদ্দ রাখা হলেও, কর্মকর্তারা বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন।
জোবাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, "মাসিক চুক্তিতে প্রায় ৯০০ ব্যক্তি বেতারের টাকা নেয়, যাদের মধ্যে সুইপার, ঝাড়ুদার ও ড্রাইভাররা রয়েছেন।" তিনি বলেন, "নিয়োগ বাণিজ্যে একেকজনের কাছ থেকে ২-৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়।"
অভিযোগকারী আরও বলেন, বেতারের গাড়ি ভাড়ার নামে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে, যেখানে প্রতিমাসে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ভাড়া দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, "বেতারের নিজস্ব গাড়ি না থাকায় ৪০ জন ড্রাইভার দুই দশক ধরে বসে বসে বেতন নিচ্ছেন।"
জোবাইদুল ইসলাম বলেন, "দুর্নীতি বহাল থাকার জন্য আমরা হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলাম।" তথ্যমন্ত্রী তার অভিযোগের তদন্ত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তিনি জানান।