কক্সবাজারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ ছিল। কৃষকদের নিকট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সবজি ও অন্যান্য ফসলও পচে গেছে, যা তাদের বছরের সঞ্চয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
চকরিয়া উপজেলার কৃষক মাশুক মিয়া জানান, তিনি ধার দেনা করে দেড় একর জমিতে শসার চাষ করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তার ক্ষেত পানির নিচে। তিনি বলেন, “দেড় লাখ টাকা খরচ করে আড়াই কানি জমিতে শসা রোপণ করেছিলাম। এখন সব পানির তলে। আমি এখন নিরুপায়।”
অন্য এক কৃষক নুরুল আলমের চার বিঘার আউশ ক্ষেতও বানের পানিতে ডুবেছে। তিনি জানান, “চোখের সামনে ভেসে গেছে বছরের সঞ্চয়।” কৃষকরা জানান, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ও স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে চাষাবাদ করেছেন, কিন্তু এখন সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হবে। কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামানিক টেলিফোনে জানান, “আমনের কিছু জাত আছে যেগুলো দেরিতে চাষ করা যায়। আমরা তাদের বীজের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।”
এছাড়া, দুর্যোগ সহনশীল পণ্য আবাদের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরামর্শ প্রদান করছে।