খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের চরম কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়মিত অপারেশন থিয়েটারটি চালু থাকলেও অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা অর্ধেক কমে গেছে।
গত ২০ মে খুমেক হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লেগে জরুরি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই জরুরি অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ থাকায় হাসপাতালের সার্বিক অস্ত্রোপচার সেবায় প্রভাব পড়ছে। অনেক রোগী দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এক রোগী বলেন, “ওটি যদি চালু থাকত, আমরা দ্রুত সেবা পেতাম।”
এদিকে, জরুরি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় চিকিৎসকরা জানান, জরুরি অস্ত্রোপচার সেবা ব্যাহত হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. হোসেন আলী বলেন, “জরুরি অপারেশনগুলো রুটিন ওটি কক্ষে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে, ফলে সেগুলো ঠিকমতো হচ্ছে না।”
হাসপাতালটির পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশন থিয়েটারটি চালুর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিদিনই আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করছি। এটি ঠিক করার দায়িত্ব পিডাব্লিউডির, সিভিল এবং ইলেক্ট্রিক্যাল। সিভিলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।”
বর্তমানে হাসপাতালের আরেকটি রুটিন অপারেশন থিয়েটিতে সীমিত পরিসরে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। আগে যেখানে মাসে পাঁচ শতাধিক অস্ত্রোপচার হতো, এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।