সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

কুমিল্লায় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধে দুই শতাধিক সোলার বাতি চুরি

কুমিল্লায় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে দুই শতাধিক সোলার বাতি চুরি, লক্ষাধিক মানুষের চলাচল অনিরাপদ।

কুমিল্লায় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধে দুই শতাধিক সোলার বাতি চুরি

কুমিল্লা শহরের গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে দুই শতাধিক সোলার বাতি চুরি হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় সোয়া কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার ফলে লক্ষাধিক মানুষের চলাচল রাতের অন্ধকারে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত নতুন বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২০২৩ সালে সদর উপজেলার পালপাড়া থেকে গোলাবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ৬ কিলোমিটার সড়কে ৫ শতাধিক সোলার বাতি বসানো হয়েছিল। প্রতিটি বাতির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোলার বাতিগুলো থাকায় তারা রাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারতেন। তবে চুরির পর তাদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে এবং নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক নারী বলেন, "মোবাইলের লাইট লাগে। না হইলে আপনার হাতে টর্চ লাইট লাগে। তা না হইলে মানুষের চলার কোনো লাইন নাই।"

এক ব্যক্তি বলেন, "লাইট থাকতে আমরা ঢাকা থেকে রাতের ১টা–দেড়টার সময় আইছি। এখন ঢাকা থেকে আইতে ব্রিজে ছিনতাইকারী ধরে। এদিকে তো ধরেই।"

টিক্কারচর সেতুর সব সোলার বাতিও চুরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ছিনতাই, মাদকসেবন ও সীমান্তে চোরাচালানের সুবিধা করতেই এসব বাতি নষ্ট বা চুরি করা হয়েছে। এক পথচারী বলেন, "বিশৃঙ্খল মানুষ, মাদক কারবারি যারা– এ লাইটগুলোর ওপর তাদের নজড় পড়েছে।"

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, কোটি টাকার সরকারি সম্পদ চুরি হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেই। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, "রাস্তার ধারে এতগুলো বাল্ব চুরি হয়ে গেল। অথচ কোনোভাবে জানা গেল না– কীভাবে এটি হয়েছে।"

সোলার বাতি চুরির পর অন্ধকারে কুমিল্লার পাঁচথুবী ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান এ সড়ক। একই পথে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের গোলাবাড়ি বিজিবি চেকপোস্ট।

বিজ্ঞাপন