ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগে তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত আবুল কাসেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে আবুল কাসেমের মেয়েকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করেন।
স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, বিয়ের সময় রাজি না হলে তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে সাইফুল ইসলাম মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল কাসেমকে বাড়ির সামনে মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে জানান নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার। তিনি বলেন, “আমরা চার দিন ধরে ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। রবিবার সকালে আমার স্বামী বাড়িতে আসেন এবং পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।”
আবুল কাসেমের ভাই আবুল কালাম বলেন, “ভয়, অপমান ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই আমার ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।”