বর্ষা মৌসুম চলাকালীন রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আশঙ্কাজনকভাবে পানির স্তর কমে গেছে। এর ফলে হ্রদের বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠেছে, যা নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পরিস্থিতির কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুর্গম উপজেলা বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সঙ্গে। বছরের এই সময়ে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে গেছে। তারা জানান, হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা হতো।
এছাড়া, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে। ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে এবং বাকি ৩টি ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদে পলি জমে যাওয়াই পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। তিনি দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পলি অপসারণের দাবি জানান, যাতে নেভিগেশনের সমস্যা সমাধান হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পানি রিজার্ভ রাখা যায়।
স্থানীয়রা কাপ্তাই হ্রদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ড্রেজিং শুরুর দাবি জানিয়েছেন, কারণ এটি রাঙামাটির মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভরসা।