বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের দশ বছর পর, বাংলাদেশ চীনের একটি নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে এই ঘোষণা আসতে পারে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) নিয়ে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে বেইজিংয়ে রয়েছেন এবং আজ চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করা হবে, যার মধ্যে জিডিআইতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সমঝোতা নথিও রয়েছে।
বাংলাদেশ হঠাৎ করে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়নি। ২০২১ সালে শি জিনপিং যখন প্রথম জিডিআইয়ের ঘোষণা দেন, তখন থেকেই বাংলাদেশকে এতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চীন এই প্রস্তাবটি বারবার উত্থাপন করেছে।
জিডিআই মূলত জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম। এটি দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, মহামারি মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে। চীন দাবি করছে, এটি কোনো সামরিক জোট নয়, বরং একটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশের জিডিআইয়ে যুক্ত হওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে এলডিসি সংকটের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে, ফলে বিশ্ব ব্যাংক বা আইএমএফের মতো সংস্থাগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া কঠিন হবে। তাই জিডিআই বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক লাইফলাইন হতে পারে।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেছেন, জিডিআই মূলত ওই প্রকল্পের পরিপূরক। তবে, ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক চাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জিডিআইয়ে যুক্ত হলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তবে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে। অর্থনৈতিক উত্তরণ এবং পরাশক্তিদের ভারসাম্য রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।