ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মী মারা যাওয়ার পর ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
গত রোববার, ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৬) নামের ওই ছাত্রলীগ কর্মী ডিবি হেফাজতে মারা যান। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরে একটি অফিস আদেশে জানানো হয়, 'জনাব সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন (বিপি-৮০০৬১০৬১৮৫) অফিসার-ইনচার্জ, ডিবি, সদর জোন, ফরিদপুরকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হলো।'
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাকে পুলিশ লাইন্স ফরিদপুরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মৃত্যুবরণকারী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাদকসহ তাকে আটক করা হয়। পরিবার দাবি করে, আটক করার সময় মায়ের সামনেই তাকে মারধর করা হয়।
রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং ৪০ মিনিটের জন্য ঢাকা খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে।
বিক্ষোভের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। পরে মৃত প্রান্তের পরিবারের অনুরোধে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন। জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিনজন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন এবং এই ঘটনার জন্য দ্রুত বিচার দাবি করেন।